গল্প সুকেশিনী
লেখক: আকাশ হোসেন রবিন (AHR)
আকাশের ঘর শীতল বাতাসে নড়বড় করছিল। বারান্দায় বসে সে চা খাচ্ছিলো, মন ভরে উঠেছিল স্বস্তিতে।
তখন হঠাৎ সেই ফিসফিসানি শুনলো।
“তুমি ভেবেছিলে আমি মরে গেছি? রক্তচোষারা কখনো মরে না, আকাশ…”
আকাশ উঠে দাঁড়াল, চারপাশ ঘুরে দেখল-কেউ নেই।
“শুধু বাতাসই হয়তো,” ভাবলো নিজেকে শান্ত করতে।
কিন্তু পরদিন সকালে, গ্রামের এক বৃদ্ধার লাশ পাওয়া গেল। একদম ফ্যাকাশে, রক্তহীন।
সবাই ভয়ে পাগল হয়ে উঠল।
আকাশ বুঝতে পারে- সুকেসিনী আর একবার ফিরে এসেছে।
সে সিদ্ধান্ত নিল, একবার গ্রামের বাইরে একটা বনের কাছে এক তান্ত্রিকের কাছে যাবে, যারা ডাইন দমন করতে পারে।
তবে যেতে যাওয়ার আগে এক জিনিস করতেই হবে-সে সুকেসিনীর একটি চিরনি লুকিয়ে রেখেছিল, যা দিয়ে সুকেসিনী মাথার আচরাতো। ওই চিরুনি ছিল ঐশ্বরিক তাবিজ।
আকাশ বুঝল, এই চিরুনি দিয়ে সে সুকেসিনীর আসল শক্তি বন্ধ করতে পারবে।
রায়হান তার গাড়ি নিয়ে গ্রামের বাইরে বনের পথে রওনা দিল।
সেখানে থাকতেন এক গুরুতর তান্ত্রিক – মহাপুরুষ মহেন্দ্র মুনিরাজ। তিনি জানতেন কিভাবে ডাইনি বা অভিশপ্ত আত্মাকে বাঁধা দিতে হয়।
মহেন্দ্র মুনিরাজ ঘরের ভিতর নিয়ে গেলেন আকাশকে।
“এই চিরুনি,” তিনি বললেন, “এই জিনিসটা একশো বছর আগে এক মহাসাধু বানিয়েছিলেন। যার ওপর ডাইনি শক্তি প্রবেশ করলে সে নিজেকে আর শক্তিশালী করতে পারে না। তবে, শুধু এই চিরুনি দিয়ে যথাযথ বানানো মন্ত্র পাঠ করতে হবে।”
আকাশ জোরালো স্বরে বলল,
“আমি চাই, আমার মায়ের জন্য, আমার গ্রামকে বাঁচাতে চাই। আমাকে শেখান।”
মুনিরাজ বললেন,
“তোমাকে প্রস্তুত হতে হবে, কারণ ডাইনি খুবই চালাক। সে তোমার ভয়ের ওপর আঘাত করবে।”
রাত্রি নামতেই শুরু হলো যজ্ঞ। ঘর ভরে গেল ধূপ, মন্ত্রোচ্চারণ আর অমোঘ তাবিজের আলো।
মহেন্দ্র মুনিরাজ আকাশের হাতে সেই চিরুনি দিলেন,
“এখন তোমার কাজ। তাকে মোকাবিলা করতে হবে, তার আসল রূপের সামনে দাঁড়াতে হবে।”
তাদের যজ্ঞ চলাকালীন হঠাৎ ভেঙে গেল দরজা। ঢুকে পড়লো সুকেসিনী-তখন আর সেই স্নিগ্ধ রূপ দেখছিল না কেউ। সে ছিল কালো পাখির মতো ছায়াময়ী, তার চোখ থেকে লাল আগুন ঝরছিল।
“আকাশ,” সে ফিসফিস করল, “তুই আমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবি না।”
আকাশ ছুড়ে দিল সেই চিরুনি। সুকেসিনী কাঁপতে লাগল।
মহেন্দ্র মুনিরাজ দ্রুত উচ্চারণ করলেন অমোঘ মন্ত্র। চিরুনি থেকে ঝলমল করে এক ধরণের নীল আলো ছড়িয়ে পড়ল।
সুকেসিনী চিৎকার দিয়ে ছুটতে শুরু করল, কিন্তু যজ্ঞের মন্ত্রের কারণে তার শক্তি ক্ষীণ হতে লাগল।
“আমি ফিরে আসব… আরো শক্তিশালী হয়ে… তোর স্বপ্নেও আসবো…” বলে ধীরে ধীরে গলে গেল তার ছায়া।
আকাশ তার মায়ের কাছে ফিরে এসে পরস্পরের হাতে হাত রেখে দাঁড়াল। গ্রামে শান্তি ফিরে এসেছে।
কিন্তু আকাশের মনে একটা প্রশ্ন রইল-
“সত্যিই কি শেষ হল? নাকি সুকেসিনী শুধু একটু বিশ্রাম নিয়েছে?”
সেদিন রাতের আসমানের এক ঝলমলে তারা ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে গেল।
সুকেশিনী – ডাইনির গল্প পর্ব – ১ পড়ুন এখান থেকে
